মুজিববর্ষ পালন নিয়ে সংসদ সদস্যদের বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের বিনা অনুমতিতে কোথাও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল যাতে তৈরি না করা হয় সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দিয়েছেন। সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী ও সিনিয়র সংসদ সদস্যদের অনুপস্থিতি নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যারা নিয়মিত অধিবেশনে আসেন না তাদের সিট দূরে সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী এসব হুঁশিয়ারি দেন বলে একাধিক সংসদ সদস্য নিশ্চিত করেছেন। এদিন ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। একঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, গাজী শাহনেওয়াজ, মাজহারুল হক প্রধান, আ স ম ফিরোজ, ছোট মনির, মৃনাল কান্তি দাস, নাজিম উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভায় মুজিববর্ষ পালন করতে গিয়ে অতিরঞ্জিত কিছু যেন না হয় সেজন্য সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কী অবস্থায় আমাদের চলতে হয়েছে। ওই সময় অনেকের ভূমিকা আমি জানি। তাই মুজিববর্ষের কর্মসূচি পালনের নামে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। এ সময় তিনি নিয়মতান্ত্রিককভাবে কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দেন।
মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে ঢালাওভাবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ না করারও নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরিতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, কেউ ম্যুরাল করতে চাইলে যেন ট্রাস্টের অনুমতি নিয়ে করেন। অনুমতি ছাড়া যত্রযত্র যেন ম্যুরাল তৈরি করা না হয়।
সূত্র আরও জানায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষে গৃহহীনদের বাড়িঘর করে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ ব্যাপারে এমপিদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, মুজিববর্ষে যেন কেউ গৃহহীন না থাকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। যাদের ঘরবাড়ি নেই তাদের ঘরবাড়ি তৈরি করে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি সুস্থ থাকলে আসবেন। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভুটানের রাজাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তারা আসবেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে। এই ডাকটিকিট যাতে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সংসদের স্পিকারদের কাছে পৌঁছানো যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।