
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০:২৩
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বোরহানউদ্দিন কামিল(আলিয়া)মাদ্রাসার আলিম(এইচএসসি সমমান) প্রথম বর্ষের শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা আকস্মিক খসে ৪ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন পাঠদানরত মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ এএইচএম অলিউল্যাহ। ওই সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার(১৭ ফ্রেব্রুয়ারি) বেলা এগারোটার দিকে ওই দূর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, ইমরান হোসেন(১৭), মেহেদী হাসান(১৭), মো. সালাউদ্দিন(১৮) ও জিহাদ হোসেন(১৭)। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদিকে দ্বিতল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চারটি ক্লাশের শ্রেণিকার্য অন্যত্র সড়িয়ে নেয়ায় শ্রেণিকক্ষের চরম পাঠদান সংকট দেখা দিয়েছে।
মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ এএইচএম অলিউল্যাহ জানান, ওই সময় তিনি আলিম বর্সের ক্লাশ নিচ্ছিলেন। হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের ছাদের দুইটি স্থান থেকে মাঝারি আকারের পলেস্তারা খসে পড়ে। একটি ছাত্রদের বে স্থান বরাবর, অন্যটি হোয়াইট বোর্ড সংলগ্ন স্থানে। প্রথম ও দ্বিতীয় বেঞ্চে বসা চার শিক্ষর্থীর হাতের বিভিন্ন স্থানে চামড়া উঠে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি হোয়াইট বোর্ডের পাশে দাঁড়ানো ছিলেন। আধা ইি এদিক-ওদিক হলে তার মাথায় পলেস্তারা পড়তে পারত। তিনি আরো জানান, সাথে সাথে ওই শ্রেণির ক্লাশ সহ দ্বিতলের সব ক্লাশ অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

মাদ্রাসা নির্মান কাজের সাথে জড়িত ওই মাদরাসার সাবেক সহকারি অধ্যাপক মাও. ইয়াছিন জানান, মাদ্রাসার নিজস্ব অথায়নে ১৯৭৭ দিকে সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম পাকা ভবন নির্মান কাজে হাত দেন। কোন প্রকৌশলীর নকশা ছাড়াই প্রথমে পঁনের ইি বেইজের উপর দশ ইি ব্রিক ওয়ালের ভবন নির্মান করা হয়। ছাদ ছাড়া কোথাও রডের কলাম করা হয়নি। একতলা একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন এভাবেই শেষ করা হয়। মাও. ইয়াছিন জানান, অবসরে যাওয়া সর্বশেষ অধ্যক্ষ মরহুম মাও. মফিজুল হক তাও নিজস্ব অর্থায়নে দ্বিতীয় তলার কাজ ১৯৮৫ সালের দিকে শেষ করেন। তবে ওই সময় নির্মান কাজে আরসিসি পিলার ও কলাম করা হয়েছে। তবে বালু, রডের মান বিচার ও সময়কাল হিসাব করলে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে পারে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ, বি আহমদ উল্যাহ আনছারী জানান, এ মাদ্রাসার বয়স একশ বছর। মাদরাসার সিংহভাগ অবকাঠামো মাদ্রাসার অর্থায়নে করা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলের ঐকান্তিক চেষ্টায় একটি সাইক্লোন সেল্টার কাম একাডেমিক ভবন সরকারিভাবে পাওয়া গেছে। ওই স্থানে মোটামুটি আটটি শ্রেণির ক্লাশ করা সম্ভব। এছাড়া ২০০৪-০৫ অর্থবছরে চার কক্ষের ভোকেশনাল ভবন করা হয়েছে। তার দুই কক্ষেই প্রাকটিক্যালের মালামাল। একটি কক্ষে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। মাদ্রাসার পুরাতন ভবনের দ্বিতল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওইস্থানে আর ক্লাশ নেয়া যাচ্ছেনা। প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কছে একটি নতুন একাডেমিক ভবন বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান।
বোরহানউদ্দিন পৌরসভার মেয়র ও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে একটি নতুন ভবন বরাদ্দ দেয়া না হলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

উল্লেখ্য ১৯২১ সালে ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নে টবগী গ্রামে ৯ দশমিক ৬০ একর জমির উপর টবগী দাখিল মাদ্রাসা নামে এ মাদ্রাসার জন্ম হয়। ওই এলাকার মরহুম মাও. কেরামত আলী ও মরহুম মাও. দলিলউদ্দিন ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারে এ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩২ সালে মাদ্রাসাটি আলিম পর্যায়ে অধিভূক্ত হয়। ১৯৩৮ সালে টবগী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা হিসেবে অধিভূক্তিলাভ করে। ১৯৫৫-৫৬ সালের দিকে মাদ্রাসাটি ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। ফলে ১৯৫৭ সালে ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের নাছির মাঝি গ্রামে মাদ্রাসাটি স্থানান্তরিত হয়। নাছির মাঝি এলাকার মরহুম গোলাম রহমান পন্ডিত পরিবার ৮ দশমিক ৭২ একর জমি দান করে ওই মাদ্রাসাকে নতুন প্রাণ দেন। কিন্তু ৯ বছরের মাথায় মাদ্রাসাটি ফের নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। ওই স্থানে টিকে থাকতে না পেরে ১৯৬৭ সালে মাদ্রাসাটি বর্তমান স্থান বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ এলাকায় টবগী-রাণীগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা নামে স্থানান্তরিত হয়। বোরহানউদ্দিনের মরহুম মাও. জলিল মৌলভী জমি দান করে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেন। তার পরবর্তী পরিবারও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
এছাড়া আরব আলী হাওলাদার বাড়ির মরহুম বাদশা মিয়া হাওলাদারও জমি দান ও মাদ্রাসা দেখাশুনা করে অশেষ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৪ সালে মাদ্রাসাটি কামিল মাদ্রাসা হিসেবে অধিভূক্ত হয়। মাদ্রাসাটির মূল ক্যাম্পাস ৩ দশমিক ৪৪ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯৮৩ সালে উপজেলার প্রথম মাদ্রাসা হিসেবে দাখিল পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে আলিম পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। আগামি বছর ২০২১ সালে মাদ্রাসাটি শতবর্ষ অনুষ্ঠান পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান।