
প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০:২৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চেয়ে এখন দালাল বেশি, এ দাবি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। দিন- রাত ঘুরে সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিদিন হাসপাতালের ক্যাম্পাস থাকে দালাল চক্রের দখলে। এসব দালালরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে গড়ে উঠা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের হয়ে কাজ করে। তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের নানা প্রলোভনে তাদের পছন্দের হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যায় উন্নত চিকিৎসার কথা বলে। বিনিময়ে তারা রোগী প্রতি কমিশন পায়। দালালরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ ও বর্হি বিভাগে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে। রোগী দেখলেই তারা এগিয়ে যায়। চিকিৎসক কোন রোগীর স্বাস্থ্যের পরিক্ষা-নিরীক্ষা দিলে উপস্থিত দালালরা এ রোগী নিয়ে শুরু করে টানাটানি। এতে বিপাকে পড়েন রোগী ও স্বজনরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত কয়েকজন দালালের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তাদের কেউই কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, এ হাসপাতালে এখন রোগীর চেয়ে দালাল বেশি। তাদের কর্মকাণ্ডে আগতরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিনিটি মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান ইনিউজ৭১কে জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন একটি দালাল চক্র আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করছে। তাদের খপ্পরে পড়ে অনেক রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আনাস ইবনে মালেক ইনিউজ৭১কে জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী নিয়ে টানাটানি ও নানা প্রলোভনে রোগীদের পাশের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অনেক পুরোনো। এ ধরণের অপতৎপরতা বন্ধ হওয়া উচিত।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নোমান মিয়া ইনিউজ৭১কে জানান, এখানে কে রোগী কে দালাল বুঝা মুশকিল। তারা এখানে এসে রোগী সেজে বর্হি বিভাগ থেকে টিকেট সংগ্রহ করে। পরে আগত রোগীদের মাঝে মিশে এ কাজটি করে। মাঝে মধ্যে চ্যালেঞ্জ করলে তারা নিজেদের রোগী পরিচয় দেন। আমরা শীঘ্রই এসব দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাব।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব