প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও বাড়তি টাকা দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। তবে মঠবাড়িয়া পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজারে ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে কিছু ব্যবসায়ী নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন। বাজার তদারকির ঘাটতির সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। এতে সংসারের নিয়মিত ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৃহিণী সালমা আক্তার জানান, এলপিজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে তাকে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রনি হোসেন বলেন, পাইকারি পর্যায়েই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ডিলাররা নির্ধারিত দামে গ্যাস সরবরাহ করলে তারাও কম দামে বিক্রি করতে পারতেন।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, গত দুই মাস ধরে তারা বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। অন্য একটি কোম্পানির সিলিন্ডারও স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরবরাহের ঘাটতি ও বেশি দামে কেনার কারণে বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি।
এদিকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পেয়ে একাধিক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে। রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউর রাব্বি বলেন, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং বাজার নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।