জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে অধ্যক্ষের প্রধান সহকারী পদে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীমুল হক টিটুকে নিয়োগ দেওয়াকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা একজন সরকারি কর্মচারীকে সরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় সম্পন্ন ব্যক্তিকে অধ্যক্ষের দপ্তরে বসানো হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি কলেজ অধ্যক্ষের স্বাক্ষরে একটি বদলি সংক্রান্ত নোটিশ জারি করা হয়। ওই নোটিশে কলেজের বিভিন্ন বিভাগ ও অফিস থেকে মোট ৮ জন কর্মচারীকে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়।
নোটিশ অনুযায়ী, অধ্যক্ষের অফিসে টানা ২৭ বছর দায়িত্ব পালনকারী সরকারি অফিস সহায়ক রফিকুল ইসলামকে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে সরিয়ে পাঠাগারে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অপরদিকে খণ্ডকালীন অফিস সহায়ক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীমুল হক টিটুকে অধ্যক্ষের অফিসে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বদলিকৃত কর্মচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাকে কেন বদলি করা হয়েছে, তার কোনো কারণ জানানো হয়নি। আমি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে অধ্যক্ষের অফিসে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার দায়িত্বকালেই ২৩ জন অধ্যক্ষ বদলি হয়ে গেছেন। বদলি আদেশ পাওয়ার পর আমি সেটিকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানে পাঠাগারে দায়িত্ব পালন করছি।
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ শওকত আলম মীরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বসানো হয়েছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
হিজলার মেঘনায় যৌথ অভিযানে ৫ লাখ টাকার কারেন্ট জাল জব্দ
উল্লেখ্য, বর্তমান অধ্যক্ষ শওকত আলম মীর এর আগেও সরকারি আজিজুল হক কলেজে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পড়েন। পরে সেখান থেকে তাকে বদলি করা হলে আশেক মাহমুদ কলেজ অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।