
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৪:৪৫

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কথিত এক সাংবাদিক ও তার কয়েক সহযোগীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিকের নাম আনোয়ার হোসেন আরিফ। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও কুড়িগ্রাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এছাড়া সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। আনোয়ারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহলের।আনোয়ার হোসেন আরিফ উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের হুচারবালা গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। সে কথিত সাংবাদিক নামধারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে উপজেলা জুড়ে এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ৩০ আগষ্ট আনোয়ারের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার রাজু মোস্তাফিজ।সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউপি চেয়ারম্যান জাবেদ আলী মন্ডল আনোয়ারের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ২৪ শে আগষ্ট বুধবার দুপুরে আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের খামার আন্ধারীঝাড়ে ফুলকুমার নদ হতে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে আন্ধারীঝাড় ইউপি চেয়ারম্যান জাবেদ আলী মন্ডলের কার্যালয়ে যায় আনোয়ার হোসেন আরিফ সহ কয়েকজন। সেখানে গিয়ে তারা চেয়ারম্যানের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সংবাদ প্রকাশ করার ভয় ভীতি দেখায়। এতে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

এঘটনায় জাবেদ আলীকে হেনস্তা করতে আনোয়ার নিজেকে দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি দাবী করে ভূরুঙ্গামারী থানাসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ দায়ের করে। দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার ও কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজু মোস্তাফিজের নজরে এলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নিকট আনোয়ারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

কিছুদিন আগে কথিত সাংবাদিক আনোয়ারের বিরুদ্ধে চাকুরী পাইয়ে দেবার আশ্বাসে উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের গনাইরকুটি গ্রামের সুলতান মাহমুদ নামের এক ব্যক্তির নিকট থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কুড়িগ্রাম সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (৪৫/২২ ভূরুঙ্গা) হয়েছে। এছাড়াও ভূরুঙ্গামারীর এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা ও বনোয়াট তথ্য ছড়ানোর জন্য আনোয়ারের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। যা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
আন্ধারীঝাড় ইউপি চেয়ারম্যান জাবেদ আলী মন্ডল বলেন, সংবাদ প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আনোয়ার ও তার বাহিনী। চাঁদা না পেয়ে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে তারা নামসর্বস্ব নিউজ পোর্টালে আমার নামে অপপ্রচার করছে। তাদের নামে জেলা প্রশাসক ও ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
জনকন্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজু মোস্তাফিজ বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ অপসাংবাদিকতা করে প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান ক্ষুন্ন করবে সেটা মেনে নেয়া যায়না। আনোয়ার হোসেন সহ অপসাংবাদিকতায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি।ভূরুঙ্গামারী-কচাকাটা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোরশেদুল হাসান বলেন, আনোয়ার হোসেনের নামে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।