প্রকাশ: ৮ জুন ২০২১, ১৯:২৮
রুহিয়া থানার ১নং রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক অফিসার (ইউপি সচিব) আব্দুল মান্নান এর বিরুদ্ধে সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার ইউনিয়ন পরিষদে আসা একাধিক লোকের কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ ও জন্ম নিবন্ধনের নাম সংশোধন কাজ করতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন তিনি।
এছাগা গত ৮ফেব্রুয়ারী ভিজিডি কার্ডের জমানো টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল ঐ প্রশাসনিক অফিসার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে।
ভিজিডি কার্ড ধারী বিউটি, সেলিনা, নুরবানু, শিরিন, বকুল, নাছিমা সহ অনেকে জানান, তারা প্রতিমাসে ৩০কেজি চাল পেয়েছেন এবং ৩ শত টাকা করে তারা সঞ্চয় জমা করেছেন। এতে তাদের মোট ৭হাজার ২শত টাকা জমা হয়েছে। কিন্তু সচিব আব্দুল মন্নান এখন তাদেরকে ফেরত দিচ্ছে মাত্র ৪হাজার টাকা।
মধুপুর ৮নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার, মামুন রানা, সাকিব ইসলাম জানান, তারা অনেকেই জন্মনিবন্ধন কার্ডটিতে শুধু নামের বানান ভুল সংশোধনের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬শ টাকা করে নিয়েছে। যেখানে সরকারী নির্ধারিত ফি ৫০টাকা মাত্র।
এছাড়া কুজিশহরের সামসুল/হাজেরার কাছ থেকে ৮০০ টাকা, শ্রীমতি মমতা রানীর কাছ থেকে ৫০০টাকা, ঘনিবিষ্ণুপুর, নুরনবী,মানিক ইসলাম ফয়সাল মোস্তাফিজুর রহমান, ফজলে রাব্বী, মিঠুন সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রতিটি জন্ম নিবন্ধন কার্ডের ক্ষেত্রে সরকারী র্নিদেশনা অমান্য করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আব্দুল মান্নান।
তারা আরো বলেন, অতিরিক্ত টাকা না দিলে কালক্ষেপনসহ নানা ভাবে হয়রানি করা হয় তাদের। এমনকি এ বিষয়টি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেননি। ফলে ইউনিয়নের সহজ সরল সাধারন মানুষ বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ সংশোধনের কাগজ সংগ্রহ করছে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন প্রশাসনিক অফিসার আব্দুল মান্নান মুঠোফোনে বলেন, "আমার পেছনে যারা অভিযোগ করে তা শুনে নয় লিখিতভাবে কোন অভিযোগ থাকলে সাথে রাখেন। আমি মিটিংয়ে আছি বলে কল লাইনটি কেটে দেন"।
১নং রুহিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু জানান, তিনি এ ব্যাপারে একাধিক বার মোখিক অভিযোগ পেয়েছেন এবং সালিশও করেছেন। পরে তাকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য বলা হলেও সে তার কথা শুনেছ না।
সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে জানান, সরকার নির্ধারিত ফি এর বাইরে যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমান পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিস্ট ইউনিয়নের জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান সেলিম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।