
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ৪:২৩
৬৯ এর গন অভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ হন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কিশোর আলাউদ্দিন। দাফনের পর থেকে তিনি অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকলেও এবছরই তাকে প্রথম স্মরন করল কলাপাড়াবাসী।
শহীদ আলাউদ্দিন স্মরণে শোক র্যালী ও স্মরণ সভা করেছে ‘নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়া’। মঙ্গলবার সকালে একটি শোক র্যালী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে শহীদ আলাউদ্দিন বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। শেষে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে নাগরিক উদ্যোগ’র সভাপতি নাসির উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন তৎকালীন ছাত্র নেতা ফজলুর রহমান শানু সিকদার, আহসান উদ্দিন জসিম, শহীদ আলাউদ্দিন’র চাচাতো ভাই আবুল কালাম খান, প্রভাষক রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গরা।
উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিন মৌলভী আর রাশিদা বেগমের একমাত্র পুত্র আলাউদ্দিন। জন্মের দু’বছর পর ১৯৫৪ সালে বাবা মারা যায় তার বাবা। প্রতিবাদী এ কিশোর হাজিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে বিধবা মা আর একমাত্র বোনেকে রেখে নবম শ্রেনীতে ভর্তি হন বরিশাল একে স্কুলে। ৬৯ এর উত্তাল দিনের ২৮ জানুয়ারী সকালে মায়ের কাছে লেখা চিঠি পোষ্ট করতে গিয়ে যোগ দিয়েছিলেন পাকিস্তানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মিছিলে। সেদিন বরিশাল সদর রোডের সেই বিক্ষোভ মিছিলে তৎকালীন ই পি আর অতর্কিতে গুলি চালায়। সেই গুলিতে আলাউদ্দিন গুরুতর ভাবে আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ১১ টার দিকে তিনি শাহাদাৎ বরন করেন। ২৯ তারিখ বিকাল চারটায় পকেটে রাখা রক্তে ভেজা সেই চিঠিসহ মায়ের কাছে ফেরত এসেছিল তার লাশ। গ্রামের বাড়ীতে মায়ের চোখের সামনেই দাফন করা হয় তাকে। দাফনের পর থেকেই অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে এ শহীদের কবর। রাজনৈতিক কিংবা সরকারীভাবে তাকে নিয়ে হয় না কোন স্মরনসভা। কেবলমাত্র ভাষা দিবসে স্থানীয় বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরন করে তাকে। তবে তার মৃত্যু বার্ষিকী প্রতিবছর যাতে যথাযথ ভাবে পালিত হয় সে উদ্যোগ নেবে উপজেলা প্রশাসন এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন নাগরিক উদ্যোগ কমিটির সদস্যরা।
শহীদ আলাউদ্দিনের ভাগ্নে শহীদুল ইসলাম বলেন, ১৯৭০ সালে বন্যার পর দক্ষিনা লের মানুষের দুর্দশা নিজ চোখে দেখতে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন প্রথমেই তিনি খোজ নেন ছাত্রলীগের কিশোর কর্মী আলাউদ্দিন পরিবারের। বঙ্গবন্ধু তার মাকে পৌছে দেয়ার জন্য আলাউদ্দিনের ভগ্নিপতির হাতে দিয়েছিল পাঁচশত টাকা এবং একটি টিউবয়েল।

ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব