
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৪

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠকে বাংলাদেশ ছাড়া বিমসটেকের অন্য ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করাই হবে এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগের দিন, ১২ অক্টোবর সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবেন। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। পরদিন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বৈঠকে ভুটানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুংতেন দর্জি, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল কো কো ও, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, শ্রীলঙ্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দনা আবেরত্নে এবং থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসাক থংস্রির অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
সম্মেলনে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। মানব পাচার, মাদক ও রাসায়নিকের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ, অর্থ পাচার বন্ধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিমসটেকের সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক যৌথ কার্যকরী দলের একাদশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দেওয়া সুপারিশগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিমসটেক। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠিত এই জোটের সদস্য বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। জোটটির সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও অংশ নেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারত তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, আমন্ত্রণটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।