প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত দামে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
এর আগে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। সে হিসাবে নতুন দামে প্রতি সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়ছে। অক্টোবর মাসের জন্য এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।
বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, আজ ৪ অক্টোবর এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে। কমিশনের ঘোষণার পরই নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে বাজারে এলপিজি নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও উঠেছে। দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে কয়েকটি এলপিজি অপারেটর মজুত করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হলে শনিবার সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এলপিজির মজুত ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, দেশের চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। তাহলে বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে কেন এবং কোথাও বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে কি না—এ বিষয়ে লোটাব নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লোটাব নেতারা। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে। সে কারণে দেশে এলপিজির দাম কিছুটা বাড়ানো হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার কোথাও কোথাও আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে।
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিছু অপারেটর আগেভাগে এলপিজি মজুত করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন দাম ঘোষণার পর বাজারে সরবরাহ ও প্রকৃত বিক্রয়মূল্য পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর থাকছে।