২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে শিল্প ও সেবা খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এ জন্য সরকারি নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তা, গবেষক, পেশাজীবী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, শ্রমিক-কর্মচারী এবং শিল্প ও সেবা খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। এবারের প্রতিপাদ্য ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’কে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ডিজিটাল উৎপাদন ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে শিল্পের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশকেও এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের পাশাপাশি দক্ষ, সৃজনশীল ও অভিযোজনক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। উৎপাদনশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ও উচ্চদক্ষতার কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের উন্নয়ননীতিতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহারেও প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চদক্ষতার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতি, উচ্চপ্রযুক্তির কর্মসংস্থান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। দক্ষতাভিত্তিক ও মূল্যবোধনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহার, কারিগরি ও আইটি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং তরুণদের প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়িয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে শুধু প্রযুক্তি গ্রহণ করলেই উৎপাদনশীলতা বাড়বে না; গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকের সার্বিক কল্যাণও নিশ্চিত করতে হবে।