
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ভারত সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেলাপোকা বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত ‘মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচিতে সমর্থকদের জড়ো করার চেষ্টা চলছে। তবে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ।
বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে যন্তর মন্তর ও আশপাশের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া নয়াদিল্লির ৪৫টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ এবং ২৫০টি ট্রেন বাতিলের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দিতে রাজধানীতে মানুষের সমাগম সীমিত রাখতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
যন্তর মন্তরে প্রবেশের সড়কগুলোতে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। কয়েকটি ব্যারিকেড ঝালাই করে শক্তভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে কেউ সেগুলো অতিক্রম করে বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করতে না পারে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে লাউডস্পিকার স্থাপন করা হয়েছে। রেকর্ড করা ঘোষণার মাধ্যমে মানুষকে অনুমতিহীন জমায়েত থেকে বিরত থাকতে এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না করতে সতর্ক করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন হোটেল, লজ এবং আবাসিক এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন—এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও সম্পত্তির মালিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সংবেদনশীল স্থানে অডিও রেকর্ডিং সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভসংক্রান্ত পোস্ট ও বার্তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবারের বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের প্রতিটি পদক্ষেপ নথিবদ্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনা ধারণ করতে আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগের কথাও জানিয়েছে প্রতিবেদনটি।
তবে বিক্ষোভের চূড়ান্ত পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।