প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ২:৬
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের দক্ষিণ টিকরিয়া এলাকায় অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা আকলিমা (২১) নামের এক নারীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৯ জুন) সকালে এ নারীর মরদেহটি শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উদ্বার করেছে পুলিশ।
আকলিমা আক্তারের দুইটি শিশু সন্তান রয়েছে। ইয়াসিন মিয়া নামে ৩ বছরের এক ছেলে এবং ইসরাত জাহান বর্ষা নামে দেড় বছরের এক মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, টিকরিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা টমটম চালক ফজলু মিয়ার স্ত্রী আকলিমা শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির সবাই বের হবার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ দরজা না খোলায় পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে তাকে ঘরের তীরের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখে। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সরজমিন গিয়ে জানতে চাইলে আকলিমার ননদ মুন্নি আক্তার (১১) জানান, আজ সকালে আমি আরবি পড়ে বাড়িতে এসে ভাবি ভাবি বলে ডাকাডাকি এবং দরজা ধাক্কা দেয়ার পর যখন ভাবির কোনো সাড়াশব্দ পাইনি, তখন ঘরের পেছনের বাথরুমের ওদিকে থাকা একটি দরজা হাত দিয়ে খুলে দেখি ভাবি ঘরের তীরের সাথে একটি ওড়না পেঁচিয়ে ভাবি ঝুলে আছেন। এসময আমি চিৎকার দেওয়া শুরু করি, তখন বাড়ির লোকজন এসে জড়ো হন। খবর পেয়ে আমার ভাই এবং মা এসে ভাবিকে শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে নিয়ে যান।
আকলিমার ননদ মুন্নির মাধ্যমে জানা যায়, আকলিমা দক্ষিণ টিকরিয়ার এলাকার মৃত সুবহান মিয়ার একমাত্র মেয়ে। তারা ৫ ভাই এবং ১ বোন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই মৃত। বেঁচে থাকা দুই ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করের বলে জানা যায়। সরজমিনে আকলিমার বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাই আছকির ঘটনায় সেন্সলেস হয়ে কাথা গায়ে দিয়ে শুয়ে আছেন আরেক ভাই লাশ নিয়ে মৌলভীবাজারে।
আকলিমার স্বামী ফজলু মিয়া একই এলাকার হরমুজ মিয়ারর ছেলে। তিনি পেশায় টমটম চালক।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শারমিন আক্তার জানান, আকলিমা নামে এক নারীকে সকাল ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যু অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা লাশটি শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশকে হস্তান্তর করেছি।
শ্রীমঙ্গল ৬ নং আশিদ্রোন ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য মশাহিদ আহমেদ জানান, আমি সিলেটে ছিলাম, তবে দুপুুরে শ্রীমঙ্গলে এসে এলাকাবাসী থেকে শুনেছি আমার ওয়ার্ডের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মৃত সুবহান মিয়ার মেয়ে আজ আত্মহত্যা করেছে। মেয়ের পরিবারটি নেহায়েত গরিব বলে যোগ করেন তিনি।
শ্রীমঙ্গল থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) সুব্রত দাস জানান, আজ সকালে হাসপাতালে অন্য একটি কাজে গিয়ে আকলিমা নামের নারীর মৃদেহ দেখে আমরা জানতে পারি সে আত্মহত্যা করেছে। এই বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষন রায় সন্ধা ৬টায় জানান, আকলিমা নামের এই নারীর মরদেহ আমরা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ঘটনাটি এখন আমরা আত্মহত্যা হিসেবেই দেখছি৷ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে মরদেহ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে আত্মহত্যার কারণ জানা যাবে।