প্রকাশ: ৯ নভেম্বর ২০২২, ০:২৯
পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা ও সমুদ্র ¯œান। এই রাস উৎসবকে ঘিরে সমুদ্র সৈকতে বসে তিনদিন ব্যাপী মেলা। মেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রায় তিন শতাধিক দোকান বসেছে। বসেছে নাগর দোলাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
এসব দোকান থেকে কুয়াকাটা পৌর কর্তৃপক্ষ সাদা টোকেন দিয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার টোকেন বানিজ্য করেছেন। জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতি দোকান থেকে প্রকার ভেদে ৩’শ থেকে ৩ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। বাদ যায়নি ফেরিওয়ালাও। মেলা থেকে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কোন খাতে এ টাকা খরচ করা হয়েছে এর কোন হিসেব নেই।
জেলা প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি ক্রমে মেলায় দোকান বসানো হলেও জেলা প্রশাসনের কাছেও এসবের কোন হিসাব নেই। তবে টাকা উত্তোলনের সাথে যুক্ত পৌরসভার জয়দেব ও আল আমিন বলেন, পৌর মেয়রের নির্দেশক্রমে ১৬৫ টি দোকান এবং আরও ছোট ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন তারা। সেখানেও রয়েছে হিসেবের অনেক গড়মিল। পৌর মেয়র স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মিদের জানিয়েছেন দুই শতাধিকের উপরে মেলায় দোকান বসেছে।
মেলায় আগত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ দোকান প্রতি টাকা নিলেও তাদেরকে কোন পাকা রশিদ দেয়নি। সাদা কাগজে দোকানদারের নাম, বাবার নাম ও দোকান নম্বর লেখা থাকলেও সেখানে টাকার অংক লেখা নেই। নেই পৌর কতৃপক্ষের সীল স্বাক্ষরও। টাকা উত্তোলনে নেয়া হয়েছে অসচ্ছতার আশ্রয়। সাদা টোকেনের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন নিয়ে কুয়াকাটায় চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মেলায় খেলনা সামগ্রী নিয়ে ঢাকা থেকে আগত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লুৎফর, লিটন, মৎস্য বন্দর আলীপুরের মোঃ জুয়েল, বাউফলের বাবু পাল, পটুয়াখালীর জসিমসহ একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলায় দোকান নিয়ে ব্যবসা করছেন। কিন্ত কোথাও রশিদ ছাড়া টাকা দিতে হয়নি। কুয়াকাটা পৌরসভা সাদা কাগজের টোকেনের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে ৫’শ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। সাদা টোকেনে টাকার অংক এবং পৌর কর্তৃপক্ষের সীল স্বাক্ষর ছিল না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ তাদের সাথে পৌর কর্তৃপক্ষ জুলুম করেছে। ক্যানভাসার কামাল জানান, মেলায় আসর বসানোর জন্য তাদের ৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান, পৌর মেয়র ও তার লোকজন নাগর দোলা বসিয়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও মেলা উপলক্ষে পৌর কর্তৃপক্ষ টাকা উত্তোলন করেছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের অফিসের ক্লার্ক উত্তম বাবু এ বিষয়ে বলেন, জেলা প্রশাসনের মৌখিক অনুমতিতে পৌর কর্তৃপক্ষকে মেলায় দোকান বসানোর অনুমতি দেয়া হলেও দোকান থেকে কোন টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যয় বহনের জন্য পৌর মেয়র দোকান প্রতি ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে কি পরিমান টাকা উত্তোলন করেছেন এর কোন হিসাব তার জানা নেই।
এ বিষয় পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, মেলায় দুই শতাধিকের উপরে দোকান বসেছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। পৌর মেয়র মেলায় দোকান থেকে টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, উত্তোলনকৃত টাকা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খরচ করা হয়েছে।