প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২১, ২:৪৭
চলতি বছরের ২৭ জুলাই হিজলা উপজেলার হিজলা গৌরব্দী ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের হাতে ৪ ডাকাত আটক হয়েছিল । ডাকাতদের বিরুদ্ধে হিজলা থানায় ডাকাতির মামলাও হয়েছে ।
অপর দিকে ডাকাতির আলামত জব্দ করলেও পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে ডাকাতির অপর আর একটি ট্রলার বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হিজলা গৌরব্দীর ইউনিয়নের একটি কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে ।
এ ব্যাপারে হিজলা থানা পুলিশ এবং হিজলা নৌপুলিশ কিছুই জানেন না বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , ২৬ জুলাই হিজলা উপজেলার হিজলাগৌরব্দী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মেঘনা নদীর খালিশপুর এলাকায় রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একই রাতে চাঁদপুরের হাদেরগঞ্জ এলাকার ৮ জেলে সহ একটি ট্রলার নিয়ে আসে ডাকাতি মামলার প্রধান আসামি সুজন।
ডাকাত সুজনের ব্যবহৃত ট্রলারটি পুলিশ আটক করতে পারলেও ডাকাতির ঘটনার শিকার হওয়া ট্রলারটি পুলিশের জব্দ তালিকায় নেই ।
ভুক্তভোগী ইউনুছ শিকদার, বাদশা, হাচান খা, জাহাঙ্গীর জানান-ঘটনার দিন রাতে মেঘনা নদীতে ট্রলার দিয়ে মাছ শিকার করছিলেন তারা। রাতে ট্রলারে হামলা চালায় চিহ্নিত ডাকাত সর্দার সুজনসহ একটি ডাকাতদল।
তাদেরকে আহত করে মেঘনা নদীতে ফেলে দিয়েছিলো ডাকাতেরা । এরপর ডাকাত দল অপর দুটি ট্রলারে হামলা চালায় এবং ট্রলারটি মেঘনায় ডুবিয়ে দিয়েছে ডাকাতদল ।
এরপর ডাকাতদের ব্যবহৃত ট্রলার এবং অপর একটি ট্রলার সহ ৮ জন জেলেকে আটক করে ডাকাতদল হিজলা গৌরব্দীর কাকুরিয়া এলাকায় নিয়ে আসলে সকালে সাধারণ জনগণ ধাওয়া করে ডাকাত সর্দার সুজন সহ ৪ ডাকাতকে আটক করে।
অপর দিকে আটক ডাকাত সুজনের কাছ থেকে জানা গিয়েছে , সে চাঁদপুরের হাদেরগঞ্জ এলাকার মামুন মুন্সির কাছ থেকে একটি ট্রলার ছিনতাই করে নিয়ে আসে। সেটি হিজলা গৌরব্দী ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন তপাদার, ইউপি সদস্য জাহের আকনের কাছে জমা রাখেন। কিন্তু পরবর্তী বিষয়ে সে কিছুই জানে না।
এদিকে স্থানীয় হিজলা গৌরব্দী ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন তপাদার, ইউপি সদস্য জাহের আকন এবং ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন সরদার জানান, ডাকাত সুজন ও তার দলবল একটি ট্রলার ২৬ জুলাই মেঘনায় ডাকাতি শেষে নিয়ে আসে।
২৭ জুলাই ট্রলার মালিক হাদেরেগঞ্জের মোস্তাকের হাতে তুলে দেন তারা। পরে এ বিষয়ে থানা পুলিশ এবং নৌ পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
হিজলা থানার এস আই আরিফ হোসেন, এস আই আমিনুল ইসলাম, নৌ পুলিশের এস আই মজিবুর রহমান ২৭ জুলাই হিজলা গৌরব্দীর একতা বাজার এলাকা থেকে সুজন সহ চার জনকে আটক করে এবং তাদের ব্যবহৃত একটি ট্রলার আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ বিষয় একটি ডাকাতির মামলা হয়,যার মামলা নং ১৩ ।
পুলিশ জানায় গোপনে কেউ কিছু করে থাকলে তা তাদের জানা নেই। তবে পুলিশের অনুপস্থিতিতে একটি ট্রলার আটকের পরে ছেড়ে দেয়ার তথ্য তাদের কাছে এসেছে । বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তারা।