বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির বহু প্রতীক্ষিত বর্ধিত সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সভার সূচনা হয়। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
সকাল সাড়ে ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাগত বক্তব্য দেন। সভার শুরুতেই বিগত আন্দোলন ও রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সারা দেশ থেকে আসা প্রায় চার হাজার প্রতিনিধি এই সভায় অংশ নেন। সভার মূল এজেন্ডা ছিল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ। তৃণমূলের নেতাদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারক নেতারা জানান, বিগত আন্দোলনের মূল্যায়ন এবং আগামী নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণ করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির একাধিক নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। নেতারা বলেন, তৃণমূলের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে এবং দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সভার উদ্বোধনী ও সমাপ্তি বক্তব্যে তারেক রহমান দলীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেন। দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী রাখার পাশাপাশি নির্বাচনী কৌশল বাস্তবায়নে তৃণমূল নেতাদের ভূমিকার ওপর জোর দেন তিনি।
সভায় উঠে আসা বিভিন্ন পরামর্শ ও কৌশলকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা সাজানোর কথা জানিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। দলটির নেতারা মনে করছেন, এই সভা দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :
বি: দ্র: প্রিয় পাঠক সমালোচনা আপনার অধিকার । তবে ভাষাটাও মার্জিত হতে হবে। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।