ধনী হবার জন্য ধর্ষণকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন নাতো!

মো: শওকত হায়দার জিকো, সম্পাদক ইনিউজ৭১
প্রকাশিত: ৬:৪৫ পিএম, ০৫ আগষ্ট ২০১৯
ধনী হবার জন্য ধর্ষণকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন নাতো!

প্রতিদিনের মতো আজও ডেস্কে বসে আছি আর ঠিক সেই পুরনো কাজ করে যাচ্ছি, সংবাদ প্রকাশ বা কোন সংবাদের সম্পাদনা। কিন্তু আজ মনটা ভীষণ রকম খারাপ বলবো না শুধু , এখনো ভীষণ ভারী হয়ে আছে হৃদয়টা।নিজেকে বেশ অপরাধী মনে হচ্ছে কোন কারনে।কেন অপরাধী মনে হচ্ছে বলছি বিস্তারিত; তবে তার আগে একটু বলে নিচ্ছি যে, বেশ কিছু দিন ধরে দৈনিক গড়ে ৫ টির অধিক ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করতে হচ্ছে আমাদের।তবে সেদিন বার্তা সম্পাদক আমি এবং আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বসেছিলাম একটি মিটিং নিয়ে কিছু বিষয় আলোচনা করার জন্য।

এর মধ্যে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বলছেন যে, এই যে , প্রতিদিন আপনারা ধর্ষণের এতো সংবাদ করেন ভালো কথা।কিন্তু বাবা মেয়েকে ধর্ষণ করছে এই সংবাদগুলো কি একটু বাড়িয়ে প্রকাশ করছেন কি?তিনি এই কথা বলার পর আমি বার্তা সম্পাদকের দিকে আর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। কি উত্তর দিবো একে অন্যকে তাই মনে হয় বলছিলাম !এর মধ্যে বার্তা সম্পাদক ৩ মেয়ের বাবা আমি এক মেয়ের বাবা!তাই একটা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বার্তা সম্পাদক উত্তর দিলেন। হয়তো এমনটাই হচ্ছে , না হলে প্রতিনিধিরা কই পাবে।

কি বলবো বলেন,দৈনিক গড়ে ৫ টির অধিক ধর্ষণ এর সংবাদ প্রকাশ করতে হচ্ছে আমাদের । তার মধ্যে এই সংবাদটা প্রকাশ করতে ইচ্ছে হয় না তবু করতে হচ্ছে অপরাধ বিবেচনাতে। কি যে বলি উপদেষ্টা সাহেব ; দুনিয়াটা কেমন যেন হয়ে গেছে। আমি কথাটা টেনে নিয়ে বল্লাম সাহেব আমারও এসব বিশ্বাস হয় না, বাবা কি করে এই নিকৃষ্ট কাজটি করবেন। তবে হা কেউ না কেউ এই নিকৃষ্ট কাজটি করে যাচ্ছেন।

এই বলে দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে মীটিং শেষ করলাম একটু তাড়াহুড়ো করেই।কারন যে আমার একটু হসপিটাল যেতে হবে।হসপিটালে আসলে যাবো একটু গল্প করতে।বেশ কিছু দিন ধরে সন্ধ্যার পরে গল্প করতে যাই এক মেজর জেনারেল এর সাথে। তিনি মেডিসিনের বেশ অভিজ্ঞ একজন ডাক্তার এবং বন্ধুসুলভ মানুষ। তার কাছে গেলে আমার জ্ঞানের পরিধি একটু হলেও বাড়ে । বেশ অভিজ্ঞত রয়েছে তার বাংলাদেশ এবং ইতিহাসে, তাই সময় পেলে যাই সঠিক ইতিহাস শুনতে বা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গল্প করতে। ঠিক রাত ৯ টার পরে আমাদের গল্প শুরু হবে তাই অপেক্ষা করছিলাম। 

সামনে অপেক্ষামান সবার সাথে বসে আছি এর মধ্যে একজন 'মা' এসেছেন তার মেয়েকে নিয়ে, কিন্তু 'মা' বেশ কাঁদছেন। রীতিমতো দেখে খারাপ লাগলো এবং জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে আপা, 'মা' বলছেন না; না বলেই ডুকরে ডুকরে কাঁদছে।এর পর যা বল্লেন আমি তা শুনলাম, তবে তা শুনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। তিনি বল্লেন 'আমার স্বামী আমার এই ছোট মেয়েটাকে নষ্ট করছেন' ঠিক এভাবে বলছিলেন! আমি শুনে একবারে চুপ হয়ে গিয়েছিলাম এবং ভাবছিলাম তাকে কি বলবো।

তারপর ও জিজ্ঞেস করলাম কি করে এমন পাষণ্ড কাজটি বাবা করলেন? তিনি বল্লেন আমার ২ টি মেয়ে, একটি ৯ বছরের অন্যটি ১৩ এর মধ্যে। ৯ বছরের মেয়েটির সাথে এই ক্ষমার অযোগ্য কাজটি তিনি করেছেন।আমি ২ টা মেয়ে নিয়ে ভীষণ বিপদে আছি ভাই, আল্লাহ যেন কেন আমাক মেয়ে দিলেন।তাই আজ আমার এই কষ্ট।বেশি কথা বাড়াতে চাচ্ছিলাম না তারপর ও জিজ্ঞেস করলাম আপা, আপনার স্বামী কি করেন?

বল্লেন কিছু করে না নিজেদের বাড়ী আছে, সারাদিন ঘুমিয়ে কাঁটায় সন্ধ্যা হলে বের হবেন আর 'বাবা' খাবেন অথবা নেশা পানি খেয়ে রাতে আসবেন।আর আমার চোখের আড়াল হলে মেয়েদের উপর অত্যাচার করবেন। আর বুঝতে আমার বাকি থাকলো না কি দিয়ে কি হয়েছে।'নেশা' বা মাদক যে নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করিয়ে দেয়, নিজের রক্তের সাথে বেইমানী করে তা আমি জানি। যাই হোক কোন ভাবে তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে স্যার এর রুমে গেলাম।সেই মা আর মেয়ে স্যার এর কাছে এসেছিলেন, কিন্তু স্যার তাঁকে পরামর্শ দিলেন ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে।

মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে থাকলো মনে হচ্ছে না আজ আর কোন গল্প করি। মনে হচ্ছে কেন বাবা হয়েছি।কেন শুনতে হচ্ছে আমার মতো কোন বাবা তার রক্তের বাঁধনকে ক্ষমা করছে না।তার আত্মর মানুষটি তার কাছে নিরাপদ নয়।অনেক কিছু ভাবছি , চুপ করে বসে আছি, স্যার বললেন কি জিকো সাহেব কথা বলছেন না যে, কি বলবো স্যার বেশ কষ্ট হচ্ছে। স্যার বললেন কি করবেন বলেন এটা তো 'বাবার' একার দোষ না দোষ আমাদের সকলের দোষ ধনী শ্রেণীদের, দোষ রাজনীতিবিদদের, দোষ সরকারি কর্মকর্তাদের দোষ এই সমাজের যারা নেশাটাকে আপন করে দিয়েছে।যারা সহজে এই 'ইয়াবা' বা নেশা দ্রব্য বিক্রি করে হাজার কোটিপতি হচ্ছেন তাঁদের। 

জানেন, এ দেশে এখন সবার ধনী হবার প্রবনতা শুরু হয়েছে, যে করে হোক ধনী হতে হবে, তাই আজ এই অধঃপতন।আজ সমাজের সকল শ্রেণীতে এই নেশা দ্রব্য ঢুকে গেছে।হয় সে খাচ্ছে বা কাউকে খাওয়াচ্ছে।জানেন আপনি ,খোঁজ নিন সারাদেশে এসব নেশা ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক ছত্রছায়াতে।মাদক কারবারিরা নেতাকর্মী সেজে দলের ক্ষতি করে দেশের ক্ষতি করে ধনী হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী এসব জানেন, সব জানেন, তাঁর কাছে রিপোর্ট গিয়েছে, তাই তো মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। কিন্তু পারছেন না নিয়ন্ত্রণ করতে, তবে হবে সময় লাগবে। অপেক্ষা করেন একদিন হয়তো পরিবর্তন আসবে। আপনি কি আগে কখনো শুনছেন আজকের মতো এই নিকৃষ্ট ধর্ষণের কথা।

কেন শুনছেন আজ একমাত্র কারণ সহজলভ্য নেশা!!! ধর্মীয় বিধান কেউ মানছে না, শুনছে না তার ধর্মের বাণী।যদি আজ সবাই এসব মানতো তাহলে এই দেশটা সত্যিকারে সোনার বাংলাদেশ কবে হয়ে যেত। দুর্ভাগ্য আমাদের বলতে পারেন আমরা দেখে যেতে পারলাম না হয়তো।তবে আপনারা পারবেন আশা রাখি।পরবর্তী প্রজন্ম পরিবর্তন আনবে। স্যারের কথা শুনে মাথা নাড়ানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আর মনে মনে ভাবলাম আল্লাহ আপনি সত্যি পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক ধারাতে চলার শক্তি দিবেন।এই ভাবতে ভাবতে ফিরে এলাম বাসায় মন খারপ নিয়ে।একদিন পরিবর্তন হবে নিশ্চয়ই।আমাকে বাবা হিসেবে ছোট হতে হবে না হয়তো।


সর্বাধিক পঠিত

Enews71.com is one of the popular bangla news portals. It has begun with commitment of fearless, investigative, informative and independent journalism. This online portal has started to provide real time news updates with maximum use of modern technology from 2014. Latest & breaking news of home and abroad, entertainment, lifestyle, special reports, politics, economics, culture, education, information technology, health, sports, columns and features are included in it. A genius team of Enews71 News has been built with a group of country's energetic young journalists. We are trying to build a bridge with Bengalis around the world and adding a new dimension to online news portal. The home of materialistic news.

সম্পাদক: মোঃ শওকত হায়দার জিকো
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ইনিউজ৭১.কম
হাউজ: নাম্বার ৫ ,৩য় তলা, ব্লক-ডি,পোস্ট অফিস রোড,পল্লবী,মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
+৮৮০১৯৪১৯৯৯৬৬৬
enewsltd@gmail.com