করোনায় ৮০ ভাগ কমে গেছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:০৯ পিএম, ২৬ জুন ২০২০
করোনায় ৮০ ভাগ কমে গেছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। আগের চেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কমেছে ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনায় ব্যয় করলেও এখন ২ ঘণ্টা পড়াশোনা করছে।

তবে শিক্ষার্থীদের শ্রমের হার বেড়েছে। আয়মূলক কাজে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জড়িত থাকলেও এখন বেড়েছে ১৬ শতাংশ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর মনোকষ্ট, ভয় ও দুশ্চিন্তা বেড়েছে, কমেছে আনন্দ। এছাড়া পড়াশোনা ও সৃজনশীল কাজকর্ম ব্যতীত অন্যান্য কারণে সময় কাটাচ্ছে ৩৮১ মিনিট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে গবেষণার এসব ফল তুলে ধরা হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রভাব ও অনলাইনে পাঠ গ্রহণের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য মুঠোফোনে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকের সারাদেশের শহরের বস্তি (ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও সিলেট ব্যতীত) এবং গ্রামের ৪ হাজার ৬৭২টি পরিবারের ৫ হাজার ১৯৩ শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণা করা হয়। শিক্ষার্থীর পাশাপাশি মায়েদের সাক্ষাৎকারও নেয়া হয়। চলতি বছরের ৫ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত এ গবেষণাটি করেছেন মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মনতাজিমা তাসনিম এবং রিসার্চ ইন্টার্ন ফারজিন মুমতাহেনা।

গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার আগে গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুল, কোচিং ও বাড়িতে প্রতিদিন ৬২৫ মিনিট পড়ালেখায় ব্যয় করলেও এখন তারা মাত্র ১২৪ মিনিট পড়াশোনা করছে। অর্থাৎ দিনে ১০ ঘণ্টা পড়ালেখার সময় কমে এসেছে মাত্র ২ ঘণ্টায়। সেই হিসাবে ৮০ শতাংশ পড়াশোনার সময় কমেছে।

এছাড়া টেলিভিশন ও অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা মানিয়ে নিতে পারেনি ফলে মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনে ‘ঘরে বসে শিখি’ ও ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ এই দুটি অনুষ্ঠান দেখছে এবং ১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে। যারা টিভি ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে তারা। আবার টেলিভিশনে ক্লাস অনুসরণ করাকে বেশ কঠিন বলে মনে করছে।

তবে ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর নিজে শিখছে বলেও গবেষণায় তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব থাকার পরেও ৬ শতাশং শিক্ষার্থী কোচিং এবং প্রাইভেট টিউটরের মাধ্যমে শিখছে বলেও দেখা গেছে। তবে পড়াশোনার সময় কমার তুলনামূলক কমে গেলেও বেড়েছে শিশুশ্রমের হার।

গবেষণাটিতে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের আগে যেখানে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ২ দুই ঘণ্টার বেশি আয়মূলক কাজে জড়িত ছিল, এখন তার হার দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে। আর গৃহস্থলীর কাজকর্মের হার ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা করোনার আগে ছিল মাত্র ১ শতাংশ।

সারাদেশে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অভিভাবকদের ভূমিকার বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে এই গবেষণায়। গ্রামের ২৪ ভাগ শিক্ষার্থী পড়াশোনার সহযোগী হিসেবে মা এবং ১৪ ভাগ শিক্ষার্থী বাবাকে পাচ্ছে। টেলিভিশনে ক্লাস করা ১২ ভাগ শিক্ষার্থীর বাবা-মা নিরক্ষর এবং ২৪ ভাগ শিক্ষার্থীর বাবা-মা এসএসসি কিংবা এর চেয়ে বেশি পড়াশোনা করেছেন।

এ সময় বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন বলেন, আমাদের দেশের মূল শক্তি হলো কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্ভাবনী পদক্ষেপ। করোনায় এই মূল শক্তিটিকে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। সেটা হতে পারে সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে কিংবা, শিক্ষাখাতে ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্ভাবনে। আমাদের অবশ্যই হাতে হাত মিলিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে।

গবেষক নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, দেশের শিশুদের পড়াশোনায় ব্যয় করা সময় ১০ ঘণ্টা থেকে কমে ২ ঘণ্টায় নেমে গেছে। গ্রামের শিশুরা এখন পরিবারের কাজের পিছনে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সময় না দিয়ে অন্যান্য কার্যক্রমে বেশি সময় দেয়ায় যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পূরণ করা কষ্টসাধ্য। স্কুল বন্ধ হওয়ায় ৬ ঘণ্টা বা ৫০ শতাংশ বেঁচে যাওয়া সময় আমাদের গবেষণায় ‘অ-গ্রহণীয়’। পরবর্তী ধাপে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা করব।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের বিষয়টিও পরবর্তী গবেষণায় তুলে ধরার আহ্বান জানান ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।

বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিনের সঞ্চালনায় গবেষণার জরিপটির ফলাফল তুলে ধরা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, ব্র্যাক শিক্ষা কার্যক্রমের পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (বিআইইডি) সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া গবেষক, নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরাও এই ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করেন। প্যানেল আলোচনা ও উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন আলোচকরা।

সর্বাধিক পঠিত

Enews71.com is one of the popular bangla news portals. It has begun with commitment of fearless, investigative, informative and independent journalism. This online portal has started to provide real time news updates with maximum use of modern technology from 2014. Latest & breaking news of home and abroad, entertainment, lifestyle, special reports, politics, economics, culture, education, information technology, health, sports, columns and features are included in it. A genius team of Enews71 News has been built with a group of country's energetic young journalists. We are trying to build a bridge with Bengalis around the world and adding a new dimension to online news portal. The home of materialistic news.

সম্পাদক: মোঃ শওকত হায়দার
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ইনিউজ৭১.কম
হাউজ: ৪০৮,রোড-৬, ডিওএইচএস - মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
সম্পাদক +৮৮০১৯৪১৯৯৯৬৬৬
enewsltd@gmail.com