বিপদগ্রস্থ শিক্ষার্থীদের মালমাল রাখার সুযোগ দিচ্ছে জবির আইএইচসি বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মুজাহিদ বিল্লাহ, জবি প্রতিনিধি, জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার ১৯শে জুন ২০২০ ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
বিপদগ্রস্থ শিক্ষার্থীদের মালমাল রাখার সুযোগ দিচ্ছে জবির আইএইচসি বিভাগ

মহামারী করোনা সংকটে বিপদগ্রস্ত যেসব শিক্ষার্থী মেস ছাড়ছেন, তাদের মালমাল রাখার সুযোগ দিচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ। ফলে বিভাগের যেসব শিক্ষার্থী ভাড়া টানতে না পেরে বাধ্য হয়ে মেস ছাড়ছেন তাদের মালামাল বা জিনিসপত্র বিভাগে রাখার ব্যবস্থা করেছে বিভাগটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রতিবেদকের সাথে ফোনআলাপে এতথ্য জানান সংশ্লিষ্ট বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা ড. শামছুল কবির। এছাড়াও নিজ ফেইসবুক ওয়ালে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি আকারে একটি পোস্ট করেন তিনি। এসময় যেকোনো সমস্যায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।

জরুরী বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, করোনা ভাইরাস ও বৈশ্বিক মহামারির কারণে বাংলাদেশ সরকারের প্রজ্ঞাপন মোতাবেক দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় ব্ন্ধ ছিল এবং আরো দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যে অত্র বিভাগের অনেক ছাত্র-ছাত্রী বাসা/মেস ভাড়ার সমস্যায় জর্জরিত। এমনকি উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে অনেকে বাসা/মেস ছেড়ে দিতে হচ্ছে। কিন্তু তাদের মালামাল/ জিনিসপত্র রাখার কোন জায়গা পাচ্ছে না যা আমার দৃষ্টিতে আসে। ফলে এসব ছাত্র-ছাত্রীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত/ বিপদ পড়তে না হয় সেইদিক বিবেচনা করে তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য বিভাগীয় ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অনুরোধ ও নির্দেশ প্রদান করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয় যে, কোন উপায় পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে তোমরা স্ব স্ব শ্রেণি প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। যদি প্রয়োজন হয় অবশ্যই আমি তোমাদের জিনিসপত্র / মালামাল আমাদের বিভাগে রাখার ব্যবস্থা করব; ইনশাআল্লাহ। আমার প্রিয় ছাত্র- ছাত্রীবৃন্দ, তোমরা নিরাপদে থাকো, সুস্থ থাকো এই কামনা করি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ড. শামছুল কবির বলেন, শিক্ষার্থীদের বিপদে শিক্ষক হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। প্রতিদিনই শিক্ষার্থীরা ফোন করছে। প্রথমত, বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে যেসব মেস খালি আছে বা বন্ধুদের মালামাল রাখার সুযোগ আছে সেখানে যাদের সমস্যা তাদের মালপত্র রাখতে বলছি। তারপরও যাদের আমার যে ছাত্রটা তার ট্রাঙ্ক বা বইপত্রগুলো রাখার জায়গা পাচ্ছে না আমি কেনো ডিপার্টমেন্টে তার জিনিসটা রাখবো না? করোনা পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা মাথায় রেখে কিছু জিনিসপত্র যেমন খাট, চেয়ার, টেবিল বিক্রির পরামর্শও দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরাও ছাত্রজীবন পার করেছি। হলে ৫০০ জনের সিটে ১৫০০ জন থেকেছি। আর আমাদেরতো হল নেই। এতকিছুর পরও যদি একান্তই সমস্যা হলে শিক্ষার্থীদের মালপত্র আমার বাসায়ও রাখতে পারবে। দরকার পড়লে আমি নিজে একটি স্টোর রুম ভাড়া করবো। যাতায়াতে সমস্যা হলে প্রয়োজনে আমার অফিস রুমেও মালামাল রাখার ব্যবস্থা করে দিবো। এসব ব্যাপারে শ্রেণী প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া আছে।