শীর্ষ তিন গ্রাহক খেলাপি হলে মূলধন হারাবে ২১ ব্যাংক

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৫৬ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০
শীর্ষ তিন গ্রাহক খেলাপি হলে মূলধন হারাবে ২১ ব্যাংক

দেশের শীর্ষ তিন জন গ্রাহক যদি কোনও কারণে ঋণ খেলাপি হন তাহলে দেশের ২১ ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হবে। আর মাত্র ৭ জন শীর্ষ গ্রাহক খেলাপি হলে ৩৫টি ব্যাংক এবং ১০ জন শীর্ষ গ্রাহক খেলাপি হলে ৩৭টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক স্থিতিশীলতা পর্যালোচনা (ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট) প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে গ্রাহকদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকভিত্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৯) এই প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের মাত্র ১০টি ব্যাংকের কাছেই রয়েছে মোট খেলাপি ঋণের ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এই ১০ ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটিতে খেলাপি ঋণ রয়েছে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বাকি ৩৫ শতাংশ অন্য ব্যাংকগুলোর কাছে।

প্রতিবেদনটিতে ব্যাংকের সংখ্যা উল্লেখ করা হলেও ব্যাংকগুলোর নামও প্রকাশ করা হয়নি।

এই প্রতিবেদনে মূলত বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরা হয়। তবে পুরো প্রতিবেদনেই খেলাপি ঋণের কারণে দেশের ব্যাংকগুলোর নাজুক পরিস্থিতিই বারেবারে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের সাড়ে ৮৬ শতাংশই মন্দ বা ক্ষতিজনক পর্যায়ে।

আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতে ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন ব্যাংকগুলোর গুটিকয়েক ব্যক্তি।  তিনি মনে করেন, ঋণ দেওয়ার সময়ই দুর্নীতি শুরু হয়। যে কারণে সেই ঋণের টাকা ফেরত আসে না। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়ে, ব্যাংকগুলো ঝুঁকিতে পড়ে। ব্যাংক খাতে সুশাসন না থাকার কারণে এমন হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০১৮ সালে একই সময়ে (সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে) খেলাপি ঋণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণের বেশিরভাগই আদায় অযোগ্য কু-ঋণ (মন্দ ঋণ)। মোট ঋণের ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশই আদায় অযোগ্য, মন্দ বা ক্ষতিজনক পর্যায়ে রয়েছে। খেলাপি ঋণের তিনটি শ্রেণি রয়েছে- সন্দেহজনক, নিম্নমান ও মন্দমানের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর মূলধনের বিপরীতে আয় বা রিটার্ন অন ইক্যুইটি দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১ দশমিক ৯ শতাংশ। কিন্তু তিন মাস আগেও (এপ্রিল-জুন প্রন্তিক) এটা ছিল ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের সম্পদের বিপরীতে আয় বা রিটার্ন অন অ্যাসেট শূন্য দশমিক ২ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।
ইনিউজ ৭১/এম.আর

সর্বাধিক পঠিত

Enews71.com is one of the popular bangla news portals. It has begun with commitment of fearless, investigative, informative and independent journalism. This online portal has started to provide real time news updates with maximum use of modern technology from 2014. Latest & breaking news of home and abroad, entertainment, lifestyle, special reports, politics, economics, culture, education, information technology, health, sports, columns and features are included in it. A genius team of Enews71 News has been built with a group of country's energetic young journalists. We are trying to build a bridge with Bengalis around the world and adding a new dimension to online news portal. The home of materialistic news.

সম্পাদক: শওকত হায়দার
© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ইনিউজ৭১.কম
হাউজ: ৪০৮,রোড-৬, ডিওএইচএস - মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

enewsltd@gmail.com