বরগুনায় হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
মোঃ রাকিব হোসেন
প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার ৩রা ডিসেম্বর ২০২০ ১০:০৭ অপরাহ্ন
বরগুনায় হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

বরগুনায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মরণসভা ও দোয়ানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বরগুনায়  হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। সাগরপাড়ি খেলাঘরের আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সাগরপাড়ি খেলাঘর আসর, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ও বরগুনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরররম হোসেন। সভাপতিত্ব করেন, সাগরপাড়ি খেলাঘর আসরের সভাপতি বেবী দাস। আলোচনা করেন, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ একাত্তরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মনোয়ার, মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ট্রাস্টি চিত্তরঞ্জন শীল, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট সঞ্জীব দাস, লোকবেতারের পরিচালক মনির হোসেন কামাল ও খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক আরিফ।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বরগুনাবাসী হানাদার মুক্ত হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষনের পরে বরগুনার মুক্তিকামী সহস্রাধিক তরুন বাঁশের লাঠি, গুটি কয়েক রাইফেল, বন্দুক নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করে। এরই মধ্যে পাকবাহিনী দুর্বল প্রতিরোধকে উপেক্ষা করে পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী জেলা দখল করে ফেলে।ব্যাপক ধ্বংস যজ্ঞ ও ক্ষয়-ক্ষতির ভয়ে বরগুনার মুক্তিযোদ্ধারা এলাকা ছেড়ে চলে যান। কেননা পাক বাহিনীর মোকাবেলা করার মতো তাদের কোন অস্ত্র ছিলনা। পাক বাহিনী বিনা বাধায় বরগুনা শহর দখল করে ফেলে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বরগুনার বিভিন্ন থানা ও তৎকালীন মহাকুমা সদরে পাক বাহিনী অবস্থান করে পৈশাচিক নারী নির্যাতন ও নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা জেলখানায় ৭৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে।

সময়ের ব্যবধানে কয়েক মাসের মধ্যেই বরগুনার মুক্তিযোদ্ধারা শক্তি অর্জন করে মনোবল নিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। বরগুনা, বামনা, বদনীখালী ও আমতলীতে যুদ্ধের পরে পাকবাহিনীর সদস্যরা বরগুনা ট্রেজারী ও গণপূর্ত বিভাগের ডাকবাংলোয় অবস্থান নেয়। মুক্তিযুদ্ধে বরগুনা ছিল নবম সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীন। মুক্তিযোদ্ধা হেড কোয়ার্টারের নির্দেশ পেয়ে বুকাবুনিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা ৭১ এর ২ ডিসেম্বর বরগুনা বেতাগী থানার বদনীখালী বাজারে আসেন। 
রাত তিনটার দিকে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা নৌকা যোগে বরগুনার খাকদোন নদীর পোটকাখালী স্থানে অবস্থান নেন। সংকেত পেয়ে ভোর রাতে তারা কিনারে উঠে আসেন। 

তারা দলে ছিলেন মাত্র ২১ জন। যাদের মধ্যে ১০ জন বরগুনার ও বাকী ১১ জন ঝালকাঠির। কারাগার, ওয়াবদা কলনী, জেলা স্কুল, সদর থানা, ওয়ারলেস ষ্টেশন, এসডিওর বাসাসহ বরগুনা শহরকে কয়েকটি উপ-বিভাগে ভাগ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা যে যার অস্ত্র নিয়ে অবস্থান অনুযায়ী শীতের সকালে ফজরের আজানকে যুদ্ধ শুরুর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করেন।আজান শুরুর সাথে সাথে ৬টি স্থান থেকে একযোগে ফায়ার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। 

দ্বিতীয় দফা ফায়ার করে তারা জেলখানার দিকে এগোতে থাকেন। চারজন সহযোগিসহ সত্তার খান ছিলেন, কারাগার এলাকায়। তারা এসময় জেলখানায় অবস্থানরত পুলিশ ও রাজাকারদের আত্মসমর্পন করিয়ে এসডিও অফিসের সামনে নিয়ে আসেন। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা গিয়ে স্বাধীনতাকামী তৎকালীন এসডিও আনোয়ার হোসেনকে আত্মসমর্পন করান। দুপুর বারোটার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা প্রশাসনিক দায়িত্ব এসডিওকে সাময়িকভাবে বুঝিয়ে দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বুকাবুনিয়া সাব-সেন্টারে চলে যান। বরগুনায় হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ রাত ৯টায় লোকবেতারে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।