ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যা, ফাঁসির আদেশ বরিশাল আদালতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
এম. কে. রানা
প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার ৩রা ডিসেম্বর ২০২০ ০২:৫৬ অপরাহ্ন
ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যা, ফাঁসির আদেশ বরিশাল আদালতে

বরিশালে তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী (৮)কে ধষর্ণের পর হত্যা ও তার মরদেহ গুমের ঘটনায় আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালু নামে এক ব্যক্তির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কালু নগরীর এয়াপোর্ট থানাধীন কাশিপুরের গণপাড়া এলাকার মৃত ওয়াহাব খানের ছেলে। ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান ঘোষণার পর এই প্রথম বরিশাল আদালতে কাউকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হলো। এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়জুল হক ফয়েজ জানান, এটি একটি যুগান্তকারী রায়। আট বছরের শিশু সীমাকে ধর্ষণের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড, অপহরণের ঘটনায় যাবজ্জীবন এবং মরদেহ গুমের ঘটনায় সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে দেড় লাখ টাকা ভিকটিমের পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১১ মার্চ পূর্ব গণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সীমা আক্তার প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের শৌচাগার বন্ধ হওয়ায় সে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী আসামি কালুর বাড়ির শৌচাগারে যায়। এ সময় কালু ওই শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণ করে। পরে শিশু সিমাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে একই এলাকার হালিম মাস্টারের বাড়ির গোরস্থানে ফেলে রাখে। ঘটনার দুদিন পর ১৩ মার্চ ওই গোরস্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা মাহমুদা বেগম বাদী হয়ে আসামির নাম উল্লেখ করে এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এয়ারপোর্ট থানার ইন্সপেক্টর আবদুর রহমান মুকুল আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। আদালত ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার এ রায় প্রদান করেন।