মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে নিয়মিত নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম উন্মোচন করছে। সম্প্রতি দেশটি একটি উচ্চ-গতির নৌযান উন্মোচন করেছে, যা যুদ্ধজাহাজ মোকাবিলায় উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। এই নৌযানটি ইরানের সামরিক শক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই দিনে ইরানের স্থল বাহিনী ভারি, আধা-ভারি এবং অতিরিক্ত ভারি সামরিক সরঞ্জামের একটি নতুন বহর গ্রহণ করেছে। এই সরঞ্জামগুলোর মধ্যে কৌশলগত ট্যাংক পরিবাহক, সাঁজোয়া যান এবং উন্নত ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী এই নতুন সরঞ্জামগুলোকে তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত করেছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ইরানের সেনাবাহিনীর উপ-সমন্বয়কারী অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি, স্থল বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিউমার্স হেইদারি এবং উপ-কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নোজার নেমাতিসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন সরঞ্জামগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত ভারি কৌশলগত ট্যাংক পরিবাহক, চারটি ভিন্ন শ্রেণির সাঁজোয়া যান এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোন রয়েছে। এই সরঞ্জামগুলো ইরানের স্থানীয় প্রকৌশলী ও প্রতিরক্ষা উদ্ভাবকদের দ্বারা উন্নত বা আধুনিকায়ন করা হয়েছে, যা দেশটির সামরিক প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। ইরানের এই সামরিক উন্নয়ন মধ্যপ্রাচ্যে তার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই ধারা চলমান থাকলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির সামরিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন তার প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের এই সামরিক পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :
বি: দ্র: প্রিয় পাঠক সমালোচনা আপনার অধিকার । তবে ভাষাটাও মার্জিত হতে হবে। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।