সিলেটে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জেলা প্রতিনিধি, সিলেট
প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৫২ অপরাহ্ন
সিলেটে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি

রমজানকে সামনে রেখে সিলেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ীদের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে।  


সিলেট জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও ভোক্তা অধিকার সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে রমজান মাসে কেউ পণ্যের দাম বাড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হয়।  


জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ারুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং এবং ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়।  


সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, রমজান মাসজুড়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হবে। বাজারে প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় পণ্যের দাম না বাড়ান।  


এছাড়া, নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রশাসন জানিয়েছে, এই অভিযান রমজানজুড়ে অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যবসায়ী যদি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, "পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা এবং অধিক মুনাফা লাভের মানসিকতা পরিহার করতে হবে। ব্যবসায়ীদের জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে হবে।"  


এদিকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১০০০ টাকা, মহিষের মাংস ৬৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি করতে বলা হয়েছে।  


সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। নগরীর আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, "রমজানে যেন পণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে, সে জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।"