বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭ , ১৪ বৈশাখ ১৪২৪

আরো এক ধাপ কমলো মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের সীমা

12 Jan 2017 12:21 PM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ✒ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে আর্থিক সীমা কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় শুধু একটি হিসাব চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সেবায় একাধিক হিসাব থাকলে একটি চালু রেখে অন্য হিসাবগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে তাৎক্ষণিক এ নির্দেশনা পরিপালনের আদেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডির অর্থ বিতরণ হচ্ছে, পাশাপাশি অর্থ পাচারেও ব্যবহার হচ্ছে সেবাটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে দেশে প্রবাসী আয় কমেছে ১১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন পর্যবেক্ষণের পরই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নিয়ে কঠোর হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি হিসাবে দিনে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ও মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জমা দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ ২ বার ও মাসে ২০ বার টাকা জমা দেওয়া যাবে। তবে ৫ হাজার টাকার বেশি টাকা জমা বা উত্তোলনে গ্রাহকের পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি প্রদর্শন করতে হবে ও এজেন্টকে পরিচয়পত্র নম্বর লিপিবদ্ধ করতে হবে। আগে একজন গ্রাহক তাঁর হিসাবে দৈনিক ৫ বার ও মাসে ২০ বার টাকা জমা দিতে পারত। এ ক্ষেত্রে প্রতিবার ২৫ হাজার টাকা ও মাসে দেড় লাখ টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল।

কমানো হয়েছে নগদ অর্থ উত্তোলনের সীমাও। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ও মাসে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন একজন গ্রাহক। এ ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ ২ বারে ও মাসে ১০ বার নগদ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি হিসাবে অর্থ জমার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ হাজার টাকার বেশি অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। আগে দিনে ২৫ হাজার টাকা ও মাসে দেড় লাখ টাকা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ছিল।

নতুন নির্দেশনায় ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর সুবিধা আগের মতোই রাখা হয়েছে। দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ও মাসে ২৫ হাজার টাকা।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এজেন্টদের সব গ্রাহকের নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের বিবরণ পৃথক পৃথক রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহকের স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হবে। এসব নির্দেশনা কোনো এজেন্ট যথাযথভাবে পরিপালন না করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের এজেন্সি বাতিল করতে হবে। এ জন্য এজেন্টদের ওপর নজরদারি জোরদার করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিং একটি দ্রুত বিকাশমান সেবা, যা অতি অল্প সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি এ সেবাটি অপব্যবহার করছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। 

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )